আরও এক সপ্তাহ সময় চেয়েছে তদন্ত কমিটি

0 ৫৪

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরও এক সপ্তাহ সময় চেয়েছে। এ ব্যাপারে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে। হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বরখাস্ত হওয়া টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের সঙ্গে কথা বলতে না পারায় আরও এক সপ্তাহ সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনায় মূল অভিযুক্ত টেকনাফ থানা থেকে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাসের সঙ্গে তদন্ত কমিটির কথা বলার সুযোগ হয়নি এখনো। যেদিন আমরা তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সময় রেখেছিলাম, সেদিন তদন্ত সংস্থা প্রদীপকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। ফলে আমাদের কাজ কিছুটা বাকি থেকে যায়। আগামী ২৫ আগস্ট তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হবে। এর পর আমরা প্রদীপের স্বাক্ষর নেব। সে কারণে নির্ধারিত ২৩ আগস্ট রিপোর্ট জমা দিতে পারছি না।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকা-ের পর গঠিত তদন্ত কমিটিকে প্রথমে ১৬ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। সেই সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৩ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে না বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের বেঁধে দেওয়া সময় ২৩ আগস্ট রবিবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার টার্গেট নিয়ে কমিটি পুরোদমে কাজ করে। এ পর্যন্ত ৬০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটিকে দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী ঘটনার উৎস, ঘটনার কারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তদন্ত কমিটির প্রধান।

গত ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে গঠন করে দেওয়া তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদ, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজাহান আলী।

ডিজিটালসামগ্রী তদন্তকারী সংস্থাকে দেওয়ার আদেশ

মেজর সিনহার সহযোগী শিপ্রা দেবনাথকে আটকের পর ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভসহ বিভিন্ন ডিভাইস নিয়ে যায় রামু থানা পুলিশ। র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রামু থানার হেফাজতে থাকা ল্যাপটপ হার্ডডিস্কসহ ২৯টি ডিভাইস র‌্যাবের কাছে হস্তান্তরের জন্য ১৯ আগস্ট আদেশ দেন আদালত। এসব ডিভাইস পুলিশের হেফাজতে রাখতে আদালতে আবেদন করে রামু থানাপুলিশ। গতকাল দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হেলাল উদ্দিন পুলিশের আবেদনটি খারিজ করে দেন। রামু থানায় থাকা নীলিমা রিসোর্ট থেকে পুলিশের জব্দ করা ডিভাইসসহ সব জিনিসপত্র র‌্যাবের হেফাজতে নেওয়ার আদেশ বহাল রাখা হয়।

৭ আসামি কারাগারে

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বোনের দায়ের করা মামলায় চার পুলিশ সদস্যসহ সাত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সাত দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত ৪-এর বিচারক তামান্না ফারাহ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে সোপর্দ করা চার পুলিশ সদস্য হলেন- কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া। এ ছাড়া অন্য তিনজন পুলিশের দায়ের মামলার সাক্ষী। তারা হলেন- টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজ।

এদিকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার ঘটনা সম্পর্কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একটি পরিষ্কার তথ্যচিত্র পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ। বুধবার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারে র‌্যাব ১৫-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, আলামতসহ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কিছু নিয়ে এ মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। রিমান্ডে থাকা আসামিরা চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। চার পুলিশ সদস্য এবং তিন সাক্ষীর রিমান্ড শেষ হয়েছে। আগামীকাল তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার পর পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের রিমান্ডে আনার প্রয়োজন মনে করলে পুনরায় রিমান্ডে আনার জন্য আবেদন হবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তদন্তের কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের দেওয়া তথ্য আপাতত প্রকাশ করা যাবে না।

আশিক বিল্লাহ বলেন, রামু থানায় নীলিমা রিসোর্ট থেকে উদ্ধার ২৯টি উপকরণ জিডিমূলে সংরক্ষিত আছে। সিনহা ও শিপ্রার ব্যবহৃত সব ব্যক্তিগত ডিভাইস, ২৯টি উপকরণ তদন্তকারী কর্মকর্তা আগামীকাল গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশা করছি।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, গত ২৫ তারিখ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের টেকনাফ থানার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত সেসব উপকরণ তদন্তকারী কর্মকর্তার হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে টেকনাফ থানা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলে কারিগরি ত্রুটির কারণে ফুটেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

0 0 vote
Article Rating
আরও পড়ুন
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x