কারাগারে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকবেন ইরফান সেলিম।

0 ১১৪

কারাগারে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকবেন ইরফান সেলিম।র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজায় কারাগারে গেছেন সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকার জেলার মাহবুবুল ইসলাম।

গতকাল সোমবার রাতে গ্রেপ্তারের পর আজ মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে তাকে র‌্যাব হেফাজত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। র‌্যাব-৩’র অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল রকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইরফানকে রাত দেড়টার পরে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাকে মদ্যপান ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করার অপরাধে সাজা দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ দুপুরের মধ্যে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করতে যাচ্ছে র‌্যাব।

ইরফানকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেওয়া হয়েছে। ঢাকার জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস মহামারিকালে কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো নতুন বন্দিকে একটি সেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। সে অনুযায়ী ইরফান কারাগারে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

চাঁন সরদার দাদা বাড়ী
পুরান ঢাকার চকবাজার থানার দেবীদাস ঘাট লেনের ২৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাড়িটি ‘চাঁন সরদার দাদা বাড়ী’। সাততলা ভবনের চারতলা পর্যন্ত সিঁড়ি ও লিফট। পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা মিলিয়ে ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট। এর মধ্যে ষষ্ঠ তলাটিকে ‘কন্ট্রোল রুম’ হিসেবে ব্যবহার করেন সাংসদ হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। ভবনের সেখানে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি থেকে শুরু করে বন্দুক, হ্যান্ডকাফ, শক্তিশালী দূরবীনও রয়েছে। রয়েছে ৩৮টি ওয়াকিটকি। এসব তথ্য শুনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কে এই ইরফান সেলিম? তিনি কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ? না। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

গতকাল দুপুরে চাঁন সরদার দাদা বাড়ীতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে চলা এ অভিযানকালে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদুলকে আটক করে র‌্যাব। ইরফান সেলিমের কাছ থেকে গুলিসহ লাইসেন্সবিহীন একটি বিদেশি পিস্তল ও ৬ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। তার দেহরক্ষী জাহিদুলের কাছ থেকে একটি এয়ারগান, গুলি ও ৪০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এছাড়া ওই বাসা থেকে একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন, ৬লিটার বিদেশি মদ, ৩৮ থেকে ৪০টি অবৈধ ওয়াকিটকি, ওয়াকিটকির বেজ স্টেশন, ৩টি ভিএইচএফ সেট (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি), দূরবীনসহ এ সংক্রান্ত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। যোগাযোগ প্রযুক্তির এসব সরঞ্জামের সবই অবৈধ। এছাড়া অভিযানকালে র‌্যাব দেখতে পায়, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার দুটি ফ্লোরেই রয়েছে মদ ও ইয়াবা সেবনের ব্যবস্থা। জানা গেছে, ইরফানের এই কন্ট্রোল রুমে মানুষকে ধরে আনা হতো হ্যান্ডকাপ পরিয়ে। এখানে টর্চার সেলও রয়েছে। ওয়াকটকির জন্য ছয় মাস এবং বিদেশি মদ রাখার জন্য ছয় মাস মিলিয়ে মোট এক বছরের জন্য ইরফান সেলিমকে কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। ইরফানের মতো একই সাজা প্রদান করা হয় জাহিদুলকেও। অভিযান শেষে রাত ৮টার দিকে তাদের দুজনকে র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

গাড়িচালক রিমান্ডে
নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাংসদ হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান এ রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমণ্ডি থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আশফাক রাজীব হায়দার আসামিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী আবু হাসিব টিপু রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল সকালে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

কি ঘটেছিল সেদিন?
রোববার সন্ধ্যার পর রাজধানীর কলাবাগান ক্রসিংয়ের কাছে মারধরের শিকার হন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহম্মেদ খান। তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় সংসদ সদস্য স্টিকার লাগানো একটি গাড়ি। এরপর গাড়ি থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নেমে ওই কর্মকর্তাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সকাল পৌনে আটটার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি থানার একটি মামলা হয়। হাজী সেলিমের ছেলেসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন মারধরের শিকার নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহম্মেদ খান।

পুলিশ জানায়, ওই গাড়ি সাংসদ হাজী সেলিমের। তিনি গাড়িতে ছিলেন না। তার ছেলে ও নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। পুলিশ সাংসদের গাড়ি ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তার মোটরসাইকেল রাতেই ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, আহত এক ব্যক্তি নিজেকে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ বলে পরিচয় দেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, তিনি স্ত্রীসহ মোটরবাইকে ফিরছিলেন। ওই গাড়ি তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। তিনি তখনই মোটরসাইকেল থামান এবং নিজের পরিচয় দেন। গাড়ি থেকে নেমে দুই ব্যক্তি তাকে মারধর করেন।

ধানমন্ডি থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- ইরফান সেলিম, এ বি সিদ্দিক দীপু, জাহিদ, মীজানুর রহমান ও অজ্ঞাতনামা আরও দু-তিনজন ব্যক্তি।

0 0 vote
Article Rating
আরও পড়ুন
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x