করোনা আতঙ্কেও কাজে ব্যস্ত দিনমজুর

0 ২৪৮

‘কাজে না আসলে খামু কি একদিন কাজ না করলে বাড়িতে চুলো জ্বলে না, পরিবারে ছেলে-মেয়ে না খেয়ে খালি পেটে থাকে, পেটের জ্বলা রোগের চেয়েও বড় জ্বলা তাই ছেলে মেয়ের ক্ষুধার জ্বলা নিভাতে কাজে আইছি।করোনার ব্যাপারে আমরা জানি। এই রোগে মানুষ মারা যায় তাও জানি। একজনের হলে অন্যজনের মধ্যে ছড়ায় তাও জানি, তারপরও আমাদেরকে কাজে আসতে হয়েছে। আমরা কাজে না আসলে না খেয়ে থাকবো আমার পোলা মাইয়া, কেউ আমাগো বাড়িতে গিয়ে খাবার দিয়ে আসবে না।তাছাড়া আমরা যেসব লোকের জমিতে কাজ করি, যাদের বাড়িতে মাটির কাজ করি এই সময়ে কাজ না করলে তাদের ও ক্ষতি হবে তাছাড়া নিজেদের বেঁচে থাকার জন্যই আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে বেড়িয়েছি। একদিন কাজ না করলে দুইদিন না খেয়ে থাকতে হয়। কই না খেয়ে থাকলেতো কেউ আমাদের জিগায়না।

এভাবেই বলছিলেন সিরাজদিখান উপজেলায় মধ্য চান্দের চর গ্রামে মাটির কাজ করা মহিলা দিনমজুর আমেনা খাতুন। প্রচণ্ড গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে মাটির বুজা মাতায় নিয়ে ওই এলাকায় কাজ করতে আসা দিনমজুর মোহন মিয়া ,আব্দুল মালেক, রহমান শেখ সহ অন্যান্য দিনমজুর সবার একই কথা।

তাদের বক্তব্য, করোনা সম্পর্কে তারা জেনেছে আশপাশের দশজনের কাছেও শুনেছে, চারিদিকের পরিবেশ সম্পর্কেও তারা জানেন, কিন্তু তাদের করার কিছুই নাই। পেটে মানে না করোনার দোহাই,পরিশ্রম না করলে বাড়িতে হাড়ি জ্বলবে না, না খেয়ে মরতে হবে এজন্যই তারা কাজে বেড়িয়েছে। তাছাড়া তারা বছরব্যাপী যেসব মহাজনের জমিতে চাষ করে খায়, সেইসব আলুর জমিনে এখন কাজ নেই তাই বাড়িতে বাড়িতে মাটি উঠানোর কাজও করছে পেটের দায়ে।

দেশে করোনা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে হোম কোয়ারেন্টিন অথবা লকডাউন উপেক্ষা করে এইসব খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষগুলো আগের মতোই কাজ করে দৈনন্দিন জীবন যাপন করছেন সিরাজদিখান উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে। উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জমিনে মাঠে ঘাটে অন্তত কয়েক শতাধিক দিনমজুর একে অন্যের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। বছরের অন্য সময়ের মতোই স্বাভাবিকভাবে চলছে তাদের জীবনযাত্রা। কোনো আতঙ্ক ছাড়াই কোনোরূপ সচেতনতা ছাড়াই চলছে এইসব লোকের জীবনযাপন।

মরণঘাতী ভাইরাস করোনা থেকে বাঁচতে সব শ্রেণি পেশার লোকজনকে ঘরে থাকার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করেছে সরকার। করোনা প্রতিরোধে যেসব নির্দেশনা মেনে চলা উচিৎ তা কেবল মাত্র শহর বা বড় বড় বাজারগুলোতে মানতে দেখা গেলেও গ্রামে কিন্তু এর প্রভাব পড়েনি। সচেতনতার অভাব, আর্থিক অনটন, কোথাও কোথাও ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্যান্য নানা কারণে গ্রামাঞ্চলে এসব নিয়মকানুনের বালাই খুব একটা চোখে পড়ে না। আড়ালে আবডালে বসে আড্ডা দেয়া, চায়ের দোকানে চা বিক্রিসহ আগের মতো সব কিছুই স্বাভাবিক গতিতে চলছে গ্রামা লে। করোনা যদি গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা মহামারি আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ বদিউজ্জামান সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা জনগণকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য, ইউপি মহল্লাদাররাও গ্রামা লে কাজ করে যাচ্ছে। তারপরও পুরোপুরি আমরা মানুষকে ঘরে রাখতে পারছি এমনটি নয়। এখন সেনাবাহিনীও পুরোপুরি মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি যার যার অবস্থান থেকে মানুষকে সচেতন করার কাজ করার অনুরোধ জানান। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে পারি বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

0 0 vote
Article Rating
আরও পড়ুন
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x