চা নাকি বিষ পান

ঘুম, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, রিফ্রেশনেস ইত্যাদি এর জন্য রং চা কতই না কার্যকরী! ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা পান না করলে সকালের ঘুমের ঘোরটাই যেন কাটতে চায় না। সকাল-বিকাল কাজের ফাঁকে এক কাপ চা না হলে যেন শরীর টা চাঙ্গাই হয় না। আর এর জন্য  গরম পানিতে টি ব্যাগ ডুবিয়ে চা পান করাটা আমরা মোটামুটি সবাই অনেক পছন্দ করি। কিন্তু এই টি-ব্যাগ কি প্লাস্টিকের তৈরী কি না তা কখনও খেয়াল করেছেন কী? এই প্লাস্টিকের টি-ব্যাগের মাধ্যমে শরীরে যে প্রতিদিন কোটি কোটি  বিষাক্ত কণা প্রবেশ করছে তা কখনও খেয়াল করেছেন কী? কয়েক বছর আগে , কানাডায় নাথালি টুফেঙ্কজি কাজের ফাঁকে মন্ট্রিলের ক্যাফেতে নেমে এক কাপ চা অর্ডার

চা পান নাকি বিষ পান
ছবিঃ সংগৃহীত

করেন। চায়ের উষ্ণতা উপভোগ করতে গিয়ে হটাৎই তার মনে হয় প্লাস্টিকের তৈরী টি-ব্যাগ গুলো যথেষ্ট ক্ষতিকারক।‘ আমি ভেবেছিলাম , ফুটন্ত জলে প্লাস্টিক লাগানো জিনিস ডুবিয়ে সেটা পান করা খুব একটা ভালো বিষয় নয়!’ ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন টুফেঙ্কজি। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, ওই প্লাস্টিকের ব্যাগগুলো পানীয়ের মধ্যে অসংখ্য প্লাস্টিকের কণা যোগ করছে, যেটা অত্যন্ত মারাত্নক।

কানাডার বিখ্যাত ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক নাথালি টুফেঙ্কজি তখনই ঠিক করেন , তিনি বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা করবেন। যা ভাবা তাই কাজ। তিনি তার ছাত্র হার্নান্দেজকে দিয়ে স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে কিছু টি-ব্যাগ কিনে তার ল্যাবে নিয়ে আসতে বলেন। দেখা যায় , টুফেঙ্কজির  চিন্তা ধারা একদম ঠিক ছিল। ওই টি-ব্যাগগুলো থেকে গরম চায়ের মধ্যে অসংখ্য প্লাস্টিকের কণা প্রবেশ করছিল।

হার্নান্দেজ, টুফেঙ্কজি এবং তাদের সাথে অন্য সহ-গবেষকরা ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটন্ত জলে চার ধরনের প্লাস্টিকের টি-ব্যাগ ডুবিয়ে দেখেন ১ টি ব্যাগই ১১ বিলিয়ন (এগারশ কোটি) মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ৩০০ কোটি ন্যানোপ্লাস্টিক কণা ছড়াচ্ছে ।  আমরা সাধারণ চোখে হয়ত এই দুষণ দেখতে পাই না, কিন্তু গবেষকরা বৈদ্যুতিক মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে সেগুলো দেখতে পারেন।

তাদের এই গবেষণার বিস্তারিত বিবরণ চলতি মাসে আমেরিকান ক্যামিকেল সোসাইটি  জার্নাল এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রকাশিত হয়। তারা জানাচ্ছেন , বেশ কিছু চা বিক্রয়কারী কাগজের টি-ব্যাগের পরিবর্তে প্লাস্টিকের টি-ব্যাগ ব্যবহার করছেন। আর এই সব টি-ব্যাগ থেকেই আমদের শরীরে ঢুকছে প্লাস্টিকের বিষ। এই প্লাস্টিকের বিষ ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে কার্সিনোজেনের উপস্থিতিও লক্ষ্য করছেন তারা। টুফেঙ্কজি এর মতে, টি-ব্যাগে যে পিনের সাহায্যে সুতো আটকানো থাকে , সেই পিনও আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে।  এসকল বিষয়ে জনসাধারণকেই সচেতন হতে হবে। তারা জানেন, কীভাবে প্লাস্টিক আমাদের শরীরের এবং সমগ্র প্রকৃতির ক্ষতি করছে। এই টি-ব্যাগে ব্যবহৃত প্লাস্টিক যথেষ্ট ক্ষতিকারক। যদিও বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ অজান্তেই টি-ব্যাগ ব্যবহার করে চা পান করছেন।

ফুড সেফটি অ্যান্ড স্যান্ডার্ড অথরিটি অব ইন্ডিয়া অধ্যাপক টুফেঙ্কজির সাথে একমত হয়ে টি-ব্যাগের পিনের বিকল্প খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন চা প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোকে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ ক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকও টি-ব্যাগ ব্যবহারে বিপদের আশঙ্কা করছেন। নিউ ক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহে একজন ব্যক্তির শরীরে প্রায় পাঁচ গ্রাম প্লাস্টিক প্রবেশ করে টি-ব্যাগের সাহয্যে। তাই টি-ব্যাগে ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।

Leave a Reply

avatar
1000
  Subscribe  
Notify of
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com