তনু হত্যা মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে হস্তান্তর করা হয়েছে।

0 ৬৪

সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থার আবারও পরিবর্তন হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পর এবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়েছে মামলাটি।এই হত্যা মামলার তদন্তভার এর আগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) হাত পরিবর্তন হয়ে সিআইডিতে যায় । মামলা পিবিআইতে হস্তান্তরের বিষয়টি মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকালে নিশ্চিত করেন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনামুল হক।

হত্যাকাণ্ডের সাড়ে চার বছরে থানা পুলিশ, ডিবি, সিআইডির হাত পরিবর্তন হলেও দীর্ঘ এই সময়ে তনুর হত্যাকারীরা শনাক্ত হয়নি। নেই মামলার উল্লেখযোগ্য কোনও অগ্রগতি।দীর্ঘদিনেও খুনি চিহ্নিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তনুর পরিবার এবং কুমিল্লার বিশিষ্টজনরা।

তনুর পরিবার সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি তনু। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার কাছাকাছি সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পান। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিন জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সিআইডি বিস্তারিত কিছু বলছে না। সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিন জনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা তনুর মায়ের সন্দেহ করা আসামি বলেও সিআইডি জানায়। তবে তাদের নাম জানানো হয়নি।

তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘চার বছর যাবৎ মামলাটি সিআইডিতে। তারা কখন পিবিআইতে হস্তান্তর করেছে আমরা জানি না। গত ১৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে কিছু পিবিআই সদস্য আসে সেনানিবাসের ভিতরে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারপর আমাদের সঙ্গে কথা বলতে এসে জানায় মামলাটি এখন পিবিআই তদন্ত করছে। সিআইডিতে এখন আর নেই।’

মামলাটির সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ।

তনুর মামলা তদন্তের বিষয়ে পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘সিআইডি থেকে মামলাটি পিবিআইতে এসেছে শুনেছি। তবে কুমিল্লা পিবিআইতে এটি হস্তান্তর করেনি। মামলাটি সেন্ট্রাল পিবিআই দেখছে সম্ভবত।’

0 0 vote
Article Rating
আরও পড়ুন
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x