ইতিহাসের প্রথম দ্বিতীয় সুপার ওভার, স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে পাঞ্জাবের জয়।

0 ৫২

ইতিহাসের প্রথম দ্বিতীয় সুপার ওভার, স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে পাঞ্জাবের জয় ।আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম। এমনটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বলতে গেলে। গত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ টাই হয়েছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে। ম্যাচ গড়িয়েছিল সুপার ওভারে। সুপার ওভারও টাই হলে, শিরোপা নিষ্পত্তি হয়েছিল যে দল বেশি চার-ছক্কা মেরেছিল। সেই হিসাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতেছিল ইংল্যান্ড। সেটা ছিল ৫০ ওভারের ম্যাচ। তখনকার আইসিসির নিয়মই ছিল এমন। পরে নিয়ম বদলে যায়। বলা হয়, সুপার ওভারও টাই হলে ম্যাচ নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি সুপার ওভার চলতে থাকবে।

প্রথম সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নেমে পাঞ্জাব করে মাত্র ৫ রান। মুম্বাইর বোলার জসপ্রিত বুমরাহ দেখান কারিকুরি। ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি লোকেশ রাহুল ও নিকোলাস পুরান। এক বল বাকি থাকতেই দুজনই আউট। ৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা মুম্বাইর দুই ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও কুইন্টন ডি ককও পারেননি পাঞ্জাব পেসার মোহাম্মদ শামিকে টেক্কা দিতে। শেষ বলে দুই রানের দরকার ছিল। কিন্তু এলো এক রান। রান আউট কুইন্টন। ম্যাচ আবার গড়ায় সুপার ওভারে।

সেই নিয়ম প্রথম বাস্তবায়ন করে দেখালো চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)। রোববার রাতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মধ্যকার ম্যাচ হয়েছিল টাই। প্রথম সুপার ওভারও টাই। শ্বাসরুদ্ধকর দ্বিতীয় সুপার ওভারে পাঞ্জাব পায় স্নায়ুক্ষয়ী রোমাঞ্চকর এক জয়। রোববার দিনের প্রথম ম্যাচও গড়িয়েছিল সুপার ওভারে। হায়দরাবাদকে হারিয়ে সেখানে জেতে কলকাতা।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স করে ৬ উইকেটে ১৭৬ রান। লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাঞ্জাবের ইনিংস শেষ হয় ঠিক ৬ উইকেটে ১৭৬ রানেই।

জেতার জন্য পাঞ্জাবের দরকার ছিল ১২ রান। ব্যাট করতে এসেছিলেন ক্রিস গেইল ও মায়াঙ্ক আগারওয়াল। প্রথম বলেই ট্রেন্ট বোল্টকে ছয় মারলেন গেইল। ম্যাচ সহজ হয়ে আসে পাঞ্জাবের। দ্বিতীয় বলে ১ রান। তৃতীয় বলে চার মারলেন মায়াঙ্ক। পরের বলেও মারলেন চার। অবিশ্বাস্য জয় পাঞ্জাবের।

নিয়ম অনুসারে প্রথম সুপার ওভারে ব্যাট-বলে অংশ নেয়া ক্রিকেটার অংশ নিতে পারবেন না দ্বিতীয় সুপার ওভারে। তাই মুম্বাইর হয়ে মাঠে নামেন কাইরন পোলার্ড ও হার্দিক পান্ডিয়া। পাঞ্জাবের বোলার এবার ক্রিস জর্ডান। তার ওভারে এক উইকেট হারিয়ে মুম্বাই করে ১১ রান। শেষ বলে ছক্কাই হয়ে যাচ্ছিল পোলার্ডের। তবে বাজপাখির মতো মায়াঙ্ক আগারওয়াল অবিশ্বাস্য ছক্কা সেভ করেন। না হলে মুম্বাইর রান হতে পারত ১৫।

৪০ ওভারের ম্যাচে শেষ ৩ ওভারে পাঞ্জাবের দরকার ছিল ২৭ রান। আর এই সময়েই মোক্ষম আঘাত হেনেছিলেন মুম্বাই পেসার বুমরা। অসাধারণ ইয়র্কারে বোল্ড করেছিলেন রাহুলকে। ৫১ বলে ৭৭ রানের ইনিংসে ৭টি চার ও ৩টি ছয় মেরেছিলেন কিংস অধিনায়ক। দেড়শো স্ট্রাইকরেটে টানছিলেন দলকে। তিনি যখন ফিরলেন তখন জেতার জন্য ১৫ বলে ২৪ রান দরকার ছিল পাঞ্জাবের। ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বুমরাই মুম্বাইকে উপহার দেয় সুপার ওভার। না হলে আগেই জিততে পারত পাঞ্জাব।

৭৭ রানের দারুণ ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন পাঞ্জাব অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। ৯ ম্যাচে তৃতীয় জয় এটি পাঞ্জাবের। অবস্থান ষষ্ঠ। সুপার ওভারের নাটকীয় জয় পাঞ্জাবকে লড়াইয়ের মিশনে ফিরে আনল।

 

0 0 vote
Article Rating
আরও পড়ুন
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x