ভারতে ৩৩ দিনে আক্রান্ত ৩ লাখ

0 ৮৩

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা রোববার চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে। শেষ ৩৩ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন তিন লাখ মানুষ। দ্রুত হারে আক্রান্ত বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান প্রশাসন থেকে বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। ইতোমধ্যে দেশটির অধিকাংশ জায়গায় লকডাউন উঠে গেছে। এ ভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে- তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তার কারণ রয়েছে।

দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৫ হাজার ৪১৩ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধির হিসাবে যা এখনও অবধি সর্বাধিক। এক দিনে এত সংখ্যক মানুষ এর আগে আক্রান্ত হননি। এই বৃদ্ধির জেরে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো চার লক্ষ ১০ হাজার ৪৬১ জন।

আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুও বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে। ১৭ জুন এক দিনে দু’হাজার মৃত্যুতে হইচই পড়েছিল দেশটিতে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ৩০৬ জন। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ২৫৪ জনের। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রেই মারা গেছেন পাঁচ হাজার ৯৮৪ জন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানী দিল্লিতে মৃত্যু ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। করোনার প্রভাবে সেখানে মোট দু’হাজার ১১২ জন মারা গেছেন। তৃতীয় স্থানে থাকা গুজরাটে মারা গেছেন এক হাজার ৬৩৮ জন। এর পর তালিকায় রয়েছে তামিলনাড়ু (৭০৪), পশ্চিমবঙ্গ (৫৪০), উত্তরপ্রদেশ (৫০৭), মধ্যপ্রদেশ (৫০১), রাজস্থান (৩৩৭), তেলঙ্গানা (২০৩) ও হরিয়ানা (১৪৯), কর্নাটক (১৩২) ও অন্ধ্রপ্রদেশ (১০১)।

৩০ জানুয়ারি ভারতের কেরালায় প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। চীনের উহান থেকে ফিরেছিলেন সেই ব্যক্তি। তারপর কেটে গেছে চার মাসেরও বেশি। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। কোনো কোনো রাজ্যে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি রুখে দিয়েছিল কেরালা।

কিন্তু মহারাষ্ট্রে তা বল্গাহীন ভাবেই বেড়েছে। গোড়া থেকেই এই রাজ্য কার্যত সংক্রমণের শীর্ষে ছিল। তার পর সময় যত গড়িয়েছে, এই রাজ্য নিয়ে সারা দেশের শঙ্কা বেড়েছে। লক্ষাধিক সংক্রমণ ও পাঁচ হাজারের উপর মৃত্যু নিয়ে দেশের শীর্ষে রয়েছে রাজ্যটি। গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৮৭৪ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন সেখানে। এ নিয়ে সেখানে মোট আক্রান্ত হলেন এক লক্ষ ২৮ হাজার ২০৫ জন।

এর পরই রয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে মোট আক্রান্ত ৫৬ হাজার ৮৪৫ জন। লকডাউন যত শেষ হতে লাগল দিল্লিতে সংক্রমণ ততই বাড়তে থাকল। সেখানে এখন মোট আক্রান্ত ৫৬ হাজার ৭৪৬ জন। চতুর্থ স্থানে থাকা গুজরাতে মোট আক্রান্ত ২৬ হাজার ৬৮০ জন। দেশের মোট সংক্রমণের মধ্যে ৬৫ শতাংশই এই চারটি রাজ্য থেকে।

উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানায় ১০ হাজার পেরিয়ে গেছে। উত্তরপ্রদেশ (১৬,৫৯৪), রাজস্থান (১৪,৫৩৬), পশ্চিমবঙ্গ (১৩,৫৩১), মধ্যপ্রদেশে (১১,৭২৪) ও হারিয়ানায় (১০,২২৩) জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর পর ক্রমান্বয়ে রয়েছে কর্নাটক (৮,৬৯৭), অন্ধ্রপ্রদেশ (৮,৪৫২), বিহার (৭,৫৩৩), তেলঙ্গানা (৭,০৭২) ও জম্মু ও কাশ্মীর (৫,৮৩৪)।

সংক্রমিতের সংখ্যা পাঁচ হাজারের নিচে রয়েছে আসাম (৪,৯০৪), ওড়িশা (৪,৮৫৬), পাঞ্জাব (৩,৯৫২), কেরালা (৩,০৩৯), উত্তরাখণ্ড (২,৩০১), ছত্তীসগঢ় (২,০৪১), ঝাড়খণ্ড (১,৯৬৫) ও ত্রিপুরা (১,১৮৬)-র মতো রাজ্যগুলোর।

লকডাউন উঠে যাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গেও সংক্রমণ বেড়েছে। ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শুরু হতেই কলকাতার আশপাশ ছাড়িয়ে জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪১ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এ রাজ্যে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হলেন ১৩ হাজার ৫৩১ জন। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে।

প্রথম সংক্রমণ থেকে দেশে মোট আক্রান্ত চার লাখ পৌঁছাতে সময় লেগেছে ১৪৩ দিন। আক্রান্তের গন্ডিকে লক্ষ হিসাবে ভাগ করলে দেখা যাবে, শূন্য থেকে এক লাখে পৌঁছতে লেগেছিল ১১০ দিন। এই বৃদ্ধিকালের সময় দেশ জুড়ে জারি ছিল লকডাউন। কিন্তু এক লাখ থেকে সংক্রমণ দুই লাখে পৌঁছাতে সময় নিল মাত্র ১৫ দিন। তিন লাখে পৌঁছাতে ১০ দিন ও চার লাখে পৌঁছাতে আট দিন। যদিও এক লাখ পৌঁছনোর সাথে দুই লাখ বা তিন লাখ পৌঁছানোর তুলনা হয় না। তবে সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রবণতা ফুটিয়ে তোলে এই তথ্য।

0 0 vote
Article Rating
আরও পড়ুন
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x