ইরান এবং রাশিয়ার কাছে কিছু ভোটারের নিবন্ধন তথ্য রয়েছে : জন র‌্যাটক্লিফ

0 ৫০

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ বলেন,  ই-মেইলগুলো কট্টর ডানপন্থী গ্রুপের আদলে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, ইরান এবং রাশিয়ার কাছে কিছু ভোটারের নিবন্ধন তথ্য রয়েছে। আর ভোটারদের হুমকি দিয়ে মেইল পাঠানোর পেছনে ইরানের ‘হাত আছে’। ইরানের পাশাপাশি রাশিয়ার কাছেও যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের তথ্য রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে এই ঘোষণা এলো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ১৩ দিন আগে

‘অস্থিরতা উস্কে দেয়ার’ উদ্দেশ্যেই ঐ ইমেইলগুলো পাঠানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

র‌্যাটক্লিফের দাবি, ভোটারদের ভয় দেখানো, বিশৃঙ্খলা তৈরি ও ক্ষতিগ্রস্থ করতেই প্রাউড বয়েজ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে এসব ইমেইল পাঠায় ইরান। তিনি আরো দাবি করেন, নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে মিথ্যা তথ্য পৌঁছে দেয়ার জন্য ভোটারদের তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে- এই আশায় যে তারা বিভ্রান্তি তৈরি করবে এবং আমেরিকান গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা হ্রাস করবে।

মার্কিন ভোটারদের প্রভাবিত করার পদক্ষেপগুলোকে ‘মরিয়া শত্রুদের হতাশ প্রচেষ্টা’ অভিহিত করে র‌্যাটক্লিফ বলেন, আপনি যদি আপনার ইনবক্সে কোনও ভয় দেখানোর বা হস্তক্ষেপমূলক ইমেইল পান তাহলে আতঙ্কিত হবেন না এবং তা ছড়িয়ে দেবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র পরিচালক ক্রিস্টোফার রে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাটক্লিফের সাথে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থা এখনও নিরাপদ এবং ‘স্থিতিশীল’ রয়েছে।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের মাত্র ১৩ দিন আগেই এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো। কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভোটারদের এসব তথ্য গুজব ছড়ানো বা ভুলভাবে অন্য কোনো কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

র‌্যাটক্লিফ আরো জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে একই ধরনের কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। তবে তাদের কাছেও ভোটারদের তথ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যে ভোটারদের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়। কিছু রাজ্যে আবার আবেদন করতে হয়। এক এক রাজ্যের নিয়ম আলাদা।

অবশ্য ভোটারদের তথ্য কীভাবে ফাঁস হচ্ছে অথবা ইরান ও রাশিয়া ঐ তথ্য নিয়ে কী করছে – সে বিষয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাননি।

রাশিয়া এবং ইরান সাম্প্রতিক সময়ের ভোটারদের তথ্য কোথায় পেল বা কীভাবে সংগ্রহ করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এছাড়া তাদের কাছে কি ধরনের তথ্য রয়েছে সে বিষয়টিও পরিষ্কার নয়।

এর আগে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল। বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে দেশটি। সে সময় ডেমোক্র্যাট কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করা হয়েছিল।

এ বছরের নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন ডেমোক্র্যাট দলের জো বাইডেন।

0 0 vote
Article Rating
আরও পড়ুন
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x