অল্প বয়সে বিয়ে-ডিভোর্স, আলোচিত সেই কণিকার জীবনের উত্থান-পতন

0 ১৩২

ছোট থেকে স্বপ্ন দেখতেন গায়িকা হওয়ার। অল্প বয়সে এক ব্যবসায়ীকে বিয়ের পরে কিছুটা লক্ষ্যচ্যুত হয়েছিলেন। কিন্তু বিবাহবিচ্ছেদের পর আবার ফিরে আসেন অভীষ্ট কক্ষপথে। বহু পরিশ্রমে যে ভক্তকুল তৈরি করেছিলেন, নিজের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে এখন তাও হারানোর মুখে কণিকা কাপুর।

কণিকার জন্ম ১৯৭৮ সালের ২১ আগস্ট। তার বাবা শিল্পপতি। মায়ের একটি বুটিক আছে। ১২ বছর বয়সে তার ধ্রপদী সঙ্গীতপাঠের হাতেখড়ি। তার গুরু ছিলেন বারাণসী ঘরানার পণ্ডিত গণেশপ্রসাদ মিশ্র।

গান শেখার পাশাপাশি আকাশবাণীতে অনুষ্ঠান করতে লাগলেন পঞ্চদশী কণিকা। স্কুলে পড়ার সময় অংশ নিতেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। একসঙ্গে সমান তালে চলছিল গান আর পড়াশোনা।
বিএ পাশ করার পরে সঙ্গীতে স্নাতকোত্তর করেন কণিকা। এর পর তার পথচলা শুধুই গানের পথে। ক্যারিয়ারের জন্য পাড়ি দেন মুম্বাই।

কিন্তু সে সময় ক্যারিয়ার আর শুরু করা হল না। মাত্র উনিশ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালে বিয়ে হয়ে গেল কণিকার। প্রবাসী ব্যবসায়ী রাজ চন্দোকের সঙ্গে। বিয়ে‌র পর কণিকা চলে যান লন্ডন।

গায়িকা হওয়ার স্বপ্নকে একপাশে সরিয়ে রেখে চলছিল দাম্পত্য। কিন্তু বিয়ের দেড় দশক পরে ভেঙে যায় কণিকার সংসার। তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি ফিরে আসেন লখনৌ। কয়েক বছর সেপারেশনে থাকার পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

কেন বিবাহবিচ্ছেদের পথে গেলেন তিনি? সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সাধারণ গৃহবধূ হয়ে থাকতে দমবন্ধ লাগছিল তার। কিন্তু কোনও বিবাদের পথে না গিয়ে তিনি সরে আসেন সম্পর্ক থেকে। চাননি, এ নিয়ে প্রকাশ্যে জলঘোলা হোক।

লখনৌ ফিরে এসে নতুন করে গায়িকার ক্যারিয়ার শুরু করেন কণিকা। প্রকাশিত হয় তার গান ‘জুগনী জি’। ‘আলিফ আল্লাহ’ মিউজিক অ্যালবামের এই গানটি তুমুল সফল হয়। সাফল্যের রেশ ধরে কণিকার কাছে আসতে থাকে সুযোগ।

২০১৪ সালে প্রথম প্লেব্যাক বলিউডে। ‘রাগিণী এমএমএস টু’ ছবিতে কণিকার গলায় ‘বেবি ডল’ জনপ্রিয় হয়। ইন্ডাস্ট্রিতে এই গানটি কণিকার নামের সঙ্গে আইকনিক হয়ে গেছে।

এরপর ক্রমশই দীর্ঘ হতে থাকে কণিকার সাফল্যের তালিকা। ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ছবির ‘লাভলি’, ‘কমলি’, ‘রয়’-এর ‘চিট্টিয়া কালাইয়াঁ’, ‘দিলওয়ালে’-এর ‘প্রেমিকা’, ‘টুকুর টুকুর’ কণিকার জনপ্রিয়তার অন্যতম উদাহরণ।

কণিকার প্লেব্যাক করা ফিল্মোগ্রাফিতে উল্লেখযোগ্য হল ‘এক পাহেলি লীলা’, ‘দ্য বিগ ইন্ডিয়ান ওয়েডিং’, ‘হেট স্টোরি থ্রি’, ‘তেরা সুরুর’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘গ্রেট গ্র্যান্ড মাস্তি’ এবং ‘হামে তুমসে প্যায়ার কিতনা’। প্লে ব্যাক করেছেন বাংলা ছবি ‘রক্ত’-তেও।

বলিউডে খ্যাতির পাশাপাশি কণিকার নামের পাশে জুড়তে থাকে পেজ থ্রি-গুঞ্জনও। শোভা দে’র ছেলে আদিত্যর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শোনা যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কণিকা নিজেই আদিত্যর ছবি শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

দু’জনে একসঙ্গে ছুটি কাটাতে বিদেশেও গিয়েছেন। শোনা যায়, শোভা দে’র সঙ্গেও কণিকার সম্পর্ক সহজ। কিন্তু আদিত্য-কণিকা এখনই বিয়ে নিয়ে ভাবছেন না। উপভোগ করছেন একে অপরের সান্নিধ্য।

বিচ্ছেদের পরে অর্থকষ্টের মধ্যে দিয়েও যেতে হয়েছে কণিকাকে। সাক্ষাৎকারে জানিয়েওছেন সে কথা। বলেছেন, জীবনের সেই কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন তার মা এবং ভাই।

আরও একবার জীবনের কঠিন সময়ের সামনে কণিকা কাপুর। গত ১৫ মার্চ লন্ডন থেকে ভারতে ফেরেন তিনি। কিন্তু নিজেকে ১৪ দিন হোম কোয়রান্টাইন করে রাখার পরিবর্তে বেশ কয়েকটি পার্টিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া এবং তার ছেলে সাংসদ দুষ্মন্ত সিংহ-ও। বসুন্ধরা-দুষ্মন্ত ছাড়াও ওই পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থানের আরও ৯৬ জন সাংসদ। এঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, প্রাক্তন সেনা প্রধান ভি কে সিংহ, গজেন্দ্র শেখাওয়াত, অর্জুন রাম মেঘাওয়াল, কৈলাস চৌধুরী, সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতি, রাজ্যবর্ধন সিংহ রাঠৌর, হেমা মালিনী, রীতা বহুগুণা, সাক্ষী মহারাজ প্রমুখ।

লখনৌয়ের তাজমহল হোটেলে ১৩-১৫ মার্চের মধ্যে একাধিক পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন কণিকা। ওই হোটেল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। লন্ডন ভ্রমণের কথা লুকিয়ে যেভাবে কণিকা পার্টিতে যোগ দিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন, তাতে তার সমালোচনায় সরব হয়েছেন অনেকেই। যদিও ইতোমধ্যে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করে কণিকা জানিয়েছেন, তিনি ভাল আছেন। অল্প জ্বর রয়েছে। তবে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।

তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে লখনৌ পুলিশ। লখনৌ পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ পাণ্ডে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৬৯, ২৭০ এবং ১৮৮ ধারা অনুযায়ী, সংক্রামক ব্যধি ছড়ানো এবং আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশ অমান্য করার জন্য ওই গায়িকার বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করা হয়েছে। আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”

অন্যদিকে, লখনৌয়ে সঞ্জয় গান্ধী পিজিআইএমএস চিকিৎসাধীন কণিকার বিরুদ্ধে তারকাসূলভ আচরণের অভিযোগ উঠেছে। তাকে অন্য রোগীদের মতোই চিকিৎসকদের সঙ্গে সহযোগিতা করার আর্জি জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, গায়িকাকে নিজস্ব শৌচালয়সহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ঘরে রাখা হয়েছে। এসি থেকে সংক্রমণ ছড়ানো এড়াতে বিশেষ ‘এয়ার হ্যান্ডলিং ইউনিট’-এর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

যদিও শনিবার কণিকা এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, তাকে একটি অপরিচ্ছন্ন ঘরে রাখা হয়েছে যেখানে মশার উপদ্রবে নাজেহাল তিনি। তার সঙ্গে ‘অপরাধী’র মতো আচরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ গায়িকার।

অন্যদিকে, হাসপাতালের পক্ষ থেকে টুইট করে জানানো হয়, গায়িকাকে এখন তারকা নয়, অন্য রোগীর মতোই হাসপাতালের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এসি ঘর, গ্লুটেনমুক্ত খাদ্য-সহ হাসপাতালে যে যে সুবিধা দেওয়া যেতে পারে তার সবই তাকে দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার

0 0 vote
Article Rating
আরও পড়ুন
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x