সরকারি প্রনোদোনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠিরা বঞ্চিত : সিপিডি

0 ১২০

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সম্প্রতি সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই বলে অভিয়োগ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপসমূহের কার্যকারিতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও আয় নিরাপত্তা: সিপিডি’র প্রাথমিক বিশ্লেষণ ও প্রস্তাব শীর্ষক এক ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিং এ গতকাল এসব সুপারিশ ও মন্তব্য করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। মিডিয়া ব্রিফিং-এ সিডিপির পক্ষ থেকে উপস্থাপনা তুলে ধরেন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

বিবিএসের সর্বশেষ খানা আয় জরিপ অনুযায়ী যাদের আয় ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা তাদের সাহায্যের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়ে সিপিডির বলছে, যাদের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা তাদের ক্ষতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। আমাদের হিসাবে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ পরিবারকে সাহায্য দেয়ার প্রয়োজন আছে। একই জরিপ বিবেচনায় নিয়ে আমরা দারিদ্য রেখায় থাকা পরিবারকে প্রতিমাসে ৮ হাজার টাকা করে দুই মাসে ১৬ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব করছি। এজন্য ২৬ হাজার ৯৬২ থেকে ২৯ হাজার ৮৫২ কোটি টাকার মতো দরকার হতে পারে। এ সাহায্য নগদে দিতে হবে। এতে স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুভাবে বন্টনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে তৌফিক ইসলাম খান বলেন, আমরা দেখেছি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় অংশই বর্তমান সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে নেই। বয়স্কদের ৬৬ শতাংশ, শিশুদের ৭০ দশমিক ৬০ শতাংশ, নতুন মা হওয়া নারীদের ৭৯ দশমিক ১০ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের ৮১ দশমিক ৫০ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে। বর্তমান কাঠামোর মধ্যে যদি কর্মসূচি চালানো হয়, তা হলে ক্ষতিগ্রস্থদের বড় অংশ নিরাপত্তা পাবে না। বিশেষ করে যারা অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজ করেন তারা এখনও পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আসেননি। সেটা চিন্তার বিষয়। আর একটা বড় চিন্তার বিষয় হলো যারা বিদেশে কাজ করেন, তারা হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বাংলাদেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে আছেন।

সিপিডি বলছে, আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার যেসব কর্মসূচি আছে, তা শুধু গ্রামের জন্য তৈরি করা। শহরের দরিদ্র মানুষ বা যারা এই প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের অন্তর্ভুক্ত করা একটা চ্যালেঞ্জ। অনেক জায়গায় সাহায্য দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকারভিত্তিক তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী বড় অংশকে সাহায্য দেয়া যাবে কি না সন্দেহ আছে বলে জানান তৌফিক ইসলাম খান তার উপস্থাপনায়।

ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুযোগ সন্ধানীদের কাছে থেকে দেশের ব্যাংকিং খাতকে রক্ষা করতে হবে, যাতে তারা যেন এই প্রণোদনা থেকে সুযোগ না নিতে পারে এ জন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নজর রাখতে হবে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২৫ মার্চ রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষাণা করেছে। যার সুদের হার দুই শতাংশ। যেটা দিয়ে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারবে। আর ৫ এপ্রিল সরকার আরো চারটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যার পরিমাণ ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। সর্বশেষ কৃষিখাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়া হয়েছে পাঁচ শতাংশ সুদ হারে। যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এর বেশিরভাগই ব্যাংক নির্ভর। বলা হয়েছে, ব্যাংক ও ক্লাইন্টের সম্পর্কের ভিত্তিতে এ প্রণোদনা দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, বলার অপেক্ষা রাখে না এই প্রণোদনায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই। যদিও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ঘোষণায় বলেছেন যে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করা হবে। ভিজিএফ, ভিজিডির মাধ্যমে খাদ্য বিতরণ করা হবে। খোলা বাজারে চাল বিক্রি করা হবে। বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। যারা অনানুষ্ঠানিক খাতে আছে, দিনমজুর রিকশাওয়ালা ইত্যাদি তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সহায়তা এবং অর্থ সহায়তা দেয়া হবে।

সিপিডি নির্বাহী বলেন, যে প্রণোদান ঘোষাণা করা হয়েছে এটা বাস্তবায়নে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা, ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলো এই প্রণোদনার অর্থ সঠিকভাবে পায়।

তিনি আরো বলেন, ১০/১২টি ব্যাংক ছাড়া অন্যান্য ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের সক্ষমতা নেই। তাই এক্ষেত্রে সুশাসন বাস্তবায়ন করা জরুরি। সেটা করা না হলে খেলাপী ঋণের পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে।

0 0 vote
Article Rating
আরও পড়ুন
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x